বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৭

শাহবাগে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু, শিগগিরই আরও ২২ ইন্টারসেকশনে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শাহবাগ মোড়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর অন্যতম প্রধান সমস্যা তীব্র যানজট। এর কারণে নগরবাসীর প্রতিদিনের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা টেকসইভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করতে একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক এ সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

ডিএসসিসির আওতাধীন প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন হলো-বাংলামটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল চালু করা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, এই কার্যক্রম এখানেই শেষ নয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক এ সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে খুব শিগগিরই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

নতুন স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়ালি সংকেত দিতে হবে না উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি কঠোর আইনানুগ অনুশাসন ও নাগরিক সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি নগরবাসী ও চালকদের রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে চলা, ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন যথাযথভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ ডিজিটালাইজেশন সফল হলে নগরের কোটি মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের পেশাগত কষ্টও কমবে বলে আবদুস সালাম আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ধরে রাখতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। একটি গতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।