শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেসময় ব্যাংকটি ৪০ কোটি টাকা লোকসানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হলেও ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন, দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি কার্যকর ও নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
আজ সাভারে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোলা শাখারও উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভবিষ্যতে ব্যাংকটির আরো কার্যকর অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বাহিনীর সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি— বিশেষ করে সোলার সিস্টেম স্থাপন এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে ‘সঞ্জীবনী’ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে আর্থিক অংশীদার হিসেবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনা, বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও উদ্যোগ এবং ব্যাংকের আর্থিক সহায়তাকে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম একটি ত্রয়ী মডেল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
ব্যাংকের সংস্কার ও সুশাসন প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, ব্যাংকের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কারা নীতিমালার আওতাভুক্ত, তা বর্তমানে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত ও স্বীকৃত। নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে কোনো ব্যক্তি যাতে অবৈধ বা অননুমোদিত উপায়ে ব্যাংকের সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে, ব্যাংকের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তিনি ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ঋণের সফল ব্যবহার এবং শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে ঋণের চেক হস্তান্তর করা হয়।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।