বাসস
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৯

কায়েতপাড়া ত্রিমোহনি সেতু নির্মাণ আমার আকাঙ্ক্ষা : প্রতিমন্ত্রী হাবিব

ছবিঃ বাসস

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কায়েতপাড়ার অসম্পূর্ণ সেতুর কাজ শেষ করা ও ত্রিমোহনি সেতু প্রতিস্থাপনকে নিজের আকাঙ্ক্ষা বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আজ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কায়েতপাড়া বাজার মাঠে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কায়েতপাড়ার ব্রিজটি সম্পূর্ণ করে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করতে পারলে আমার চেয়ে বেশি খুশি ও আনন্দের আর কেউ হবে না।

কায়েতপাড়ার অসম্পূর্ণ সেতুর কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের নিয়ে ইতিমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মকর্তারা সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তার আশা, কাজ শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে সেতুটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

ত্রিমোহনি সেতু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেতুটি প্রতিস্থাপনের বিষয়েও কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। একটি প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছুটা ছাড় দিতে হলে বৃহত্তর স্বার্থে তা বিবেচনা করতে হবে। কারও ক্ষতি হলে তা পূরণের ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের একটি তালিকা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। 

রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কালভার্টসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, এলাকার নেতৃবৃন্দকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে কোথায় কী প্রয়োজন, তার তালিকা তৈরি করে দিতে হবে। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দলীয় পরিচয় থাকলেও মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। মাদকের সঙ্গে আমরা কখনোই আপস করব না, করতে দেব না।’

এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাবিবুর রশিদ জানান, এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান তিনি। মানুষের দেওয়া ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান উন্নয়নকাজের মাধ্যমে দিতে চান।

বক্তব্যের শেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো আব্দুস সালাম ও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।