বাসস
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ২১:০০

কেরানীগঞ্জকে দুই উপজেলায় বিভক্ত করতে গণশুনানি

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে দুটি পৃথক উপজেলায় রূপান্তর করতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা সহজীকরণে জাতীয় সংসদীয় আসন (ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩) অনুযায়ী কেরানীগঞ্জকে দুটি আলাদা উপজেলায় বিভক্ত করতে যুক্তি উত্থাপন করেন স্থানীয়রা।

গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। এতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেন, ‘নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। কেরানীগঞ্জের বিশাল আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার বিবেচনায় প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ২০১০ সালেই তৎকালীন সরকার প্রধানের কাছে এটিকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব করেছিলাম। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।’

জনগণের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি নতুন দুটি উপজেলার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার (ঢাকা-২ আসন) কালিন্দী, বাস্তা, শাক্তা, রোহিতপুর, তারানগর, কলাতিয়া ও হযরতপুর—এই ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে এবং কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলার (ঢাকা-৩ আসন): জিনজিরা, আগানগর, শুভাঢ্যা, তেঘুরিয়া ও কোন্ডা-এই ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘গণশুনানিতে সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও যুক্তি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক দাবি অতি দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আকারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা হবে।’

এছাড়াও কেরানীগঞ্জ উপজেলার মাসিক সাধারণ সভা ও মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকবিরোধী অভিযান, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানা বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

পরবর্তী সময়ে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের কাজের অগ্রগতি ও জবাবদিহিতা তুলে ধরেন এবং সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।