বাসস
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৯
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫২

দেশজুড়ে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত

প্রতীকী ছবি

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। 

এ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, নফল ইবাদত, দোয়া ও দান-সদকার আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, হিজরি ২৩ সনের সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িকভাবে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। 

বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সেদিন গোসল করেন এবং শেষবারের মতো সাহাবিদের নিয়ে নামাজে ইমামতি করেন। 

তার সুস্থতার সংবাদে সাহাবায়ে কেরাম আনন্দ প্রকাশ করেন এবং অনেকে দান-খয়রাত করেন। তবে, পরদিন আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ১২ রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন।

‘আখেরি চাহার সোম্বা’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। সফর মাসের শেষ বুধবারকেই আখেরি চাহার সোম্বা বলা হয়। 

এ উপলক্ষে বহু ধর্মপ্রাণ মুসলমান নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, দোয়া এবং অসহায় মানুষের মাঝে দান-সদকায় অংশ নেন।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা বলেন, ইসলামে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দান, ইবাদত ও মানবসেবার গুরুত্ব সব সময়ই রয়েছে। 

তাই এ দিনেও অনেকে নফল আমল ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

এদিকে ইসলামি গবেষকদের একটি অংশ মনে করিয়ে দেন যে, পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বাকে ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি।

তাই এ উপলক্ষ্যে যেকোনো ধর্মীয় আমল পালন করতে হলে তা যেন ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও সহিহ সুন্নাহর পরিপন্থী না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পবিত্র এ দিন উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মুসল্লিরা দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছেন।

এদিকে, আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষ্যে আজ (১২ আগস্ট) দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি পালন করা হচ্ছে। তবে, সরকারি অফিস, ব্যাংক ও অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মে খোলা ছিল।