শিরোনাম

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : তরুণ সমাজকে মাদক ও ইন্টারনেটের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সরকার শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
আজ (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত 'মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
মাদক সমস্যা দূরীকরণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, মাদকসেবীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চক্র ও মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সর্বোচ্চ কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
কেবল সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের আসক্তি থেকে দূরে রাখা কঠিন উল্লেখ করে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, তরুণদের জন্য আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাক্রমে 'এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস' কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি ও 'প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ'সহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, যা তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গঠনে সহায়ক হবে।
তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন জানান, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে নির্দিষ্ট মেয়াদে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণ করেন।