বাসস
  ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৪

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে (বিইউ) আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় গণঅভ্যুত্থানের ওপর দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে শিক্ষার্থীদের সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়সংগত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। 

এটি অন্যায়, অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান।’

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইমাম হাসান জুয়েল (আইন বিভাগ), কাউছার আহমেদ রিফাত (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), আব্দুল্লাহ আল নোমান (আইন বিভাগ), জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শ্রেবন্তী (ইংরেজি বিভাগ), আসাদুজ্জামান আসাদ (আইন বিভাগ), ইমাম মেহেদী হাসান (আইন বিভাগ), শাহিন আহম্মেদ (আইন বিভাগ), ফারদিন আহম্মেদ (অর্থনীতি বিভাগ), সাজেদুর রহমান সৌমিক (আইন বিভাগ), মেহেরান বুখারী (আইন বিভাগ) এবং আইন বিভাগের প্রভাষক মো. রাজিউল আলিম বক্তব্য দেন।

বক্তারা আন্দোলন চলাকালের অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, সহযোদ্ধাদের সাহস এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন নয়; এটি বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণমানুষের সম্মিলিত আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।

বক্তারা শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।