শিরোনাম

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : দেশে জনসংখ্যার দিক থেকে বর্তমানে নারী-পুরুষ প্রায় সমানে সমান। তেমনি ব্যবসা থেকে শুরু করে চাকুরি বা যে কোনো কিছুতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণও অনেকটাই কাছাকাছি। অর্থাৎ এক সময়ের পিছিয়ে থাকা নারী সমাজ আজ আর পিছিয়ে নেই। সরকারের নারীবান্ধব নীতির কারণে নারীদের পিছিয়ে থাকার দিন অনেক আগেই শেষ। অদম্য ইচ্ছে আর চেষ্টায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই পৌঁছেছেন শীর্ষে। তবে সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ-সুখের অনেক কাব্য। তাদেরই একজন ফ্যাশন হাউস ‘অরনেট’ এর স্বত্বাধিকারী সিলভিয়া আক্তার। তিনি জানিয়েছেন তার সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।
শুরুটা করেছিলেন সিলভিয়ার বাবা। সিলভিয়া সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি কখনো ভাবেননি ব্যবসায় যুক্ত হবেন। এ জন্য লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে যোগ দেন।
কিন্তু চাকরির একঘেয়েমি ভালো লাগছিল না তার। সন্তান হওয়ার পর চাকরি করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া বাবার বার্ধক্যজনিত কারণেও ব্যবসার হাল ধরতে হতো কারও না কারও।
বাবা ব্যবসা শুরু করলেও সিলভিয়া মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে সেটিকে বড় করেছেন। স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন হাউস হবে তার ‘অরনেট’। একসময় চারটি শোরুম ছিল অরনেটের। এরপর আস্তে আস্তে যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান ও চট্টগ্রামে শো-রুম চালু করা হয় অরনেটের।
করোনা শেষ হওয়ার পর চালু হয়েছে এসব শোরুম। মুন্সিগঞ্জে জন্ম হলেও ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড়ে বেড়ে ওঠা সিলভিয়ার। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, শহীদ আনোয়ারা গার্লস কলেজ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। তিনি প্রবলভাবেই নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন। এ জন্য তার ফ্যাশন হাউসে এখন প্রায় ৩শ’ কর্মচারীর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।
নিজস্ব আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে একটু করে গড়ে তুলেছেন ক্রেতাবলয়, অর্জন করেছেন আস্থা। শুরুটা অতো মসৃণ না হলেও প্রায় পাঁচ বছরে সিলভিয়ার পোশাক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান‘অরনেট’ ফ্যাশন হাউস পেরিয়েছে অনেক বন্ধুর পথ।
তিনি বলেন,‘একজন উদ্যোক্তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা উচিত, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দেশে নারী তথা নারী উদ্যোক্তারা পুরুষের মতো নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ পায় না। নারীরা এমন কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেন- যেটা একই সমাজের পুরুষকে করতে হয় না।তাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে সমান সুযোগ তৈরি করা দরকার।’
নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সিলভিয়ার পরামর্শ- স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থকতাই আলাদা। তাই বলব- একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে। প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, আর ইচ্ছা থাকলে তা পেরোনো সম্ভব।
নিজের ব্যবসা নিয়ে সন্তুষ্ট সিলভিয়া বলেন,‘তিনি চান তার মতো অন্য নারীরাও ধৈর্য ধারণ করে ও মেধা খাটিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াক, অবদান রাখুক দেশের উন্নয়নে।’
নারী অধিকার কর্মী রোকেয়া সুলতানা বলেন, সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি সত্যিই বড় আনন্দের একটা বিষয়। কোনো ক্ষেত্রেই নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। মূলত একটা দেশের উন্নতির জন্য উভয়েরই অবদান রাখা দরকার। যখনই নারী-পুরুষ সমানভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হয় তখনই একটা দেশ এগিয়ে যায়। উন্নত বিশ্বের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখি, সেখানে কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কোনো পার্থক্য নেই। দেশের উন্নতির জন্যে সবাই যে যার অবস্থান থেকে অবদান রাখছে। যে কারণেই সেসব দেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
রোকেয়া সুলতানা আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো পুরুষের সমান সুযোগ পাচ্ছে না নারীরা। তাই দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর সুযোগ-সুবিধা যত বেশি থাকবে ততই এর সুফল পাওয়া যাবে।’