বাসস
  ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৮

পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়তে নাগরিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

আজ নগরীর নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অনুশাসন জারি করেছেন। অনুশাসন জারির পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্কুল-কলেজকে সম্পৃক্ত করে প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গত ১৫ জুলাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সব স্টেকহোল্ডার, ডিএনসিসির বিভিন্ন সোসাইটির মালিক সমিতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের সচিব এবং পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৮ জুলাই একটি স্কুলে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‌্যালির উদ্বোধন করা হলো।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চলার পথে হাতে থাকা টিস্যু, পানির বোতল বা ছোট কোনো কনটেইনার যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নাগরিকরা সচেতন হলে রাস্তাঘাট ও আশপাশে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো আবর্জনা পড়ে থাকবে না। আমরা নগরবাসীকে একটি সুন্দর নগর উপহার দিতে চাই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, কোনো বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যোগদান করেছেন। তাদের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোনো স্থাপনায় ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বাসাবাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফল করতে নগরবাসীকে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।