শিরোনাম

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কীটতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে। সংক্রমণ ও মৃত্যু, সেই পুর্বাভাস দিচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর অবস্থাও খুবই আশঙ্কাজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির চারটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো- মশা নিধনে সুব্যবস্থার অভাব, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা না থাকা, ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং দেশে অসময়ে বন্যা ও বৃষ্টিপাত।
আমাদের দেশে ডেঙ্গুর ধরণ চারটি- ডেন ১, ২, ৩, ৪। গত বছর দেশে ডেন-২ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী ছিল। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার বা নতুন কোনো ধরণে আক্রান্ত হলে, সেই রোগীর পরিস্থিতি গুরুতর হয়। ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গু বেশী ছড়ালে নাজুক পরিস্থিতি হতে পারে। কেননা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে রোগী বেশী হলে, তা সামলানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। ঢাকার বাইরে মশা নিধনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো খুবই দুর্বল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার জন্য আমাদের কিছু বিষয় জানা অত্যান্ত জরুরি।
ডেঙ্গু কি: ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ- জ্বর। ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠতে পারে। জ্বর টানা থাকতে পারে, ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেওয়ার পর, আবারও আসতে পারে। এরসঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যাথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে কি করা উচিৎ: ডেঙ্গু হলে কী ধরনের চিকিৎসা নেবেন, বাসায় না হাসপাতালে-নির্ভর করে এর ধরণ বা ক্যাটাগরির ওপর। ডেঙ্গু জ্বরের চারটি ধরণ বা ক্যাটাগরি আছে। প্রথম ক্যাটাগরির রোগী স্বাভাবিক থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট। ধরণ বা ক্যাটাগরি-৩ এর ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকে। এতে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর কি কি খাবার খাওয়া প্রয়োজন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্রচুর প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ পানি, স্যালাইন, স্যুপ, ডাবের পানি, ফলের রস এবং দুধ জাতীয় তরল পানীয় পান করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর থেকে সেরে ওঠার পরেও প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। এ সময় শরীর যেন পানিশূন্যতায় না ভোগে সে জন্য প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।
কোন বয়সী ব্যাক্তিগণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন: ডেঙ্গুতে সাধারণত বেশি ঝুঁকিতে থাকেন- ১ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স। এছাড়া গর্ভবতী নারী যাদের ওজন বেশি, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, যারা হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত, কিংবা যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয়। তাদেরকে ডেঙ্গু সংক্রামণের শুরু থেকেই হাসপাতালে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা এবং ডেঙ্গু রোগীর ওপর নজরদারী বাড়াতে হবে। এডিস মশার লার্ভা জন্মে এমন জায়গাগুলো অপসারণ করতে হবে। জনগণকে ডেঙ্গু মশা নিধনে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে, সেখানে বেশীর ভাগ রোগী প্রথমবারের মতো আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’।