বাসস
  ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০২

প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তায় স্বস্তিতে মোংলার সুন্দরবননির্ভর জেলেরা : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাগেরহাট, ৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়হীন হয়ে পড়া সুন্দরবননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা চালু করেছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে উপকারভোগী জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

সম্প্রতি মোংলায় জেলেদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে সুন্দরবননির্ভর জেলেদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ছিল না। এবারই প্রথম সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা এলাকার মোট ৮ হাজার ২৭১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ৬ হাজার ৬৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রামপাল এলাকায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে বরাদ্দও কিছুটা কম রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভবিষ্যতেও জেলেদের কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন জলাশয়ে মাছ, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও এ সময় বননির্ভর হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এ বছর প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী জেলেরা। তারা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় এতদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হতো। সরকারের এ উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে তারা ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিরও দাবি জানান।

মোংলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সুন্দরবননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের বছরে চার দফায় ৮৪ কেজি, ৭০ কেজি, ৫৬ কেজি ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির ফলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা আরও আন্তরিকভাবে মেনে চলতে উৎসাহিত হবেন।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা এবং একই সঙ্গে বননির্ভর জেলেদের খাদ্য সহায়তার এই দুই উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।