বাসস
  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৩

গুণগত মান বজায় রেখে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ

ফাইল ছবি

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

বাইপাইলে এক সমন্বয় সভা শেষে আজ বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন।’

রউফ বলেন, প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেন অংশের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দুটি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ কমাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রেখেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাচিত কয়েকটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়িত হলেও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বিদেশি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। অর্থায়ন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (চায়না এক্সিম ব্যাংক)।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে মোট ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৪টি র‌্যাম্প থাকবে।

এ ছাড়া, প্রকল্পের আওতায় নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার এবং আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়ক বরাবর ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা আন্তঃসীমান্ত সড়ক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে দেশের সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।