বাসস
  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪২

কায়রোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বুধবার মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালন করা হয়। ছবি: দূতাবাসের ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬(বাসস) : মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বুধবার যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিবসটি পালনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণ, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

এ সময় জুলাই শহীদ এবং যোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। 

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মিশরের বিখ্যাত আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতি নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল আমিন আকন্দ, ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক ইব্রাহীম হাসান এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে। আলোচনা শেষে একটি সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল সাহসী জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকার জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত লড়াই, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। 

উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল সোনালি ইতিহাসকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষের এই অপরিসীম সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। 

ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে এক নতুন বাংলাদেশ গঠনে গণমানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং আমাদের সকলেরই এ উদ্যোগে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। দূতাবাস প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপরে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রথিতদশা অধ্যাপক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নারী উদ্যোক্তা, প্রসিদ্ধ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ বাংলাদেশি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

 অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাঙারি ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে পরিবেশন করা হয়।