বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪০

কাতারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ছবি : এম্বাসি

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জুলাই গণ-আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি জাতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। 

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রেমিটেন্স যোদ্ধা, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। 

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শহীদদের রুহের মাগফেরাত, আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের আরোগ্য এবং বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরকার প্রযোজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বক্তারা শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে মানবতার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রদূত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখায় কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো অব্যাহত রাখতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি ন্যায়বিচার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সব বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানান।

আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।