বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৪

বুড়িগঙ্গা দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নদীদূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় নদীদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় বুড়িগঙ্গায় ফেলা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্যরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে।  অভিযানকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নীট কনসার্ন লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, আমজাদ ডাইং, রাইডার থ্রেড অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড এবং ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করেন।

ফতুল্লার ওয়াপদারপুল এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। কারখানা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাইপাস ড্রেন থেকে উৎপাদন কার্যক্রমে সৃষ্ট তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। প্রাথমিক পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং ইটিপি ছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

একই দিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা, ঢাকা জেলা কার্যালয়, ঢাকা মহানগর কার্যালয় ও ঢাকা গবেষণাগারের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বুড়িগঙ্গায় তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল শনাক্ত করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী ও এর সংযোগ খালসংলগ্ন ১০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তরল বর্জ্য নির্গমনের দায়ে মোট ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে এবং ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ইটিপিবিহীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী ও জলাশয়ে দূষণরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।