বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০

নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বুধবার নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়। ছবি: বাসস

নেত্রকোণা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যথাযোগ্য মর্যাদা,গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে গতকাল বুধবার নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়োগা অ্যান্ড স্পোর্টস সেন্টারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এরআগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খালেদ উজ্জামান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষায় বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নতুন বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে নেতৃত্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করে উপাচার্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণা নির্ভর, উদ্ভাবনমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫৮ নেত্রকোণা-২ (নেত্রকোণা সদর ও বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তরুণ শিক্ষার্থীরাই পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন-জাতি তাদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলকে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোণা-৩ (আটপাড়া ও কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

বিশেষ অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের নিপীড়ন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ।’

আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, গবেষণা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান আয়াত উল্লাহ আল মুসাবি আকন্দ।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাফসা ইসলাম মোহ, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত রেজওয়ান জয়, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ হাসান নাবিল এবং সভাপতি এম. পরাণ।

বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের প্রতি সালাম জানান এবং আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুধীজনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ছহীহ্ শাফি এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক সামিয়া রহমান।