বাসস
  ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৬

স্বাস্থ্যখাতের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে : এমপি মিলন

ছবি : বাসস

রাজশাহী, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মিলন বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সুফল শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ রোগীর কাছেও পৌঁছাবে।

শুধু বাজেট বাড়ালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন মানুষের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় হয়, সেই বিষয়েও কঠোর জবাবদিহি থাকতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।  

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু সেতু, সড়ক কিংবা বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। 

উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো সাধারণ মানুষ কত সহজে, দ্রুত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাত অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি।

উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্সের সংকট, ওষুধের ঘাটতি, আধুনিক সরঞ্জামের অকার্যকারিতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১.২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। 

স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা অবহেলার সুযোগ নেই। একটি হাসপাতালের সাফল্য শুধু ইমারতে নয়, বরং একজন রোগী কত দ্রুত, আন্তরিকতা ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান। 

আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান প্রমুখ।