শিরোনাম

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): রাজধানীর বেইলি রোডে চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
একই সঙ্গে অননুমোদিতভাবে নির্মিত ৯ মিটার গাইড ওয়াল ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, অঞ্চল-১-এর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজে চুক্তির শর্ত ও নির্ধারিত কারিগরি মান লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বেইলি রোডের ২৪ নম্বর বাংলোর সামনে চলমান কাজ আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, ৯ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণে শিডিউল ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কার্য-সহকারীর উপস্থিতি ছাড়াই রাতের বেলায় সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে ঢালাই কাজ পরিচালিত হচ্ছিল।
ডিএসসিসি জানায়, চুক্তি দলিলের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত শর্ত (জিসিসি সেকশন-৩) অনুযায়ী প্রতিটি উন্নয়নকাজে নির্ধারিত মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেই শর্ত লঙ্ঘন করায় চুক্তির জিসিসি ক্লজ-২৭ (রিজেকশন অব ওয়ার্কস) অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ইতোমধ্যে নির্মিত অংশ ভেঙে অপসারণ করে পুনরায় মানসম্মতভাবে নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিআইসি অ্যান্ড এডব্লিউ(জেভি)কে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিএসসিসি। আজ সোমবার অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় স্বাক্ষরিত এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরীর উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণ কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে বাস্তবায়নাধীন সব উন্নয়নকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখতে আকস্মিক নৈশ পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে চুক্তি ও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।