বাসস
  ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৭

চট্টগ্রাম নগরীতে পরিকল্পিত অবকাঠামোয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : চসিক মেয়র

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।’

বন্দরনগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনা করেছেন চসিক মেয়র।

আজ রোববার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় ‘খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, কারিগরি বৈশিষ্ট্য, ব্যয়, জনসেবা ও ভবিষ্যৎ উপযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। সভা শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন এ মন্তব্য করেন। 

এসময় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ডিলাইট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেড-এর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা প্রকল্পটির বিভিন্ন কারিগরি বিষয়, বাস্তবায়ন কৌশল, সম্ভাব্য ব্যয় এবং ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

সভা শেষে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খুলশী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা হাজারো মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে। পাশাপাশি, দেওয়ানহাটে সাড়ে চার দশকের পুরোনো জরাজীর্ণ ওভারপাসটি নতুন করে ভেঙে না ফেলে আধুনিক ‘রেট্রোফিটিং ও শক্তিশালীকরণ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এর আয়ুষ্কাল আরও ৩০ বছরের বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে সিটি কর্পোরেশনের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে এবং নগরবাসী দ্রুত এর সুফল পাবেন।

প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, ১৯৭৮-১৯৮০ সালে নির্মিত প্রায় ৪৫ বছরের পুরোনো দেওয়ানহাট ওভারপাসের বিদ্যমান অবস্থা বিপজ্জনক (কংক্রিট ক্ষয়, রডের মরিচা ও সারফেস ক্র্যাকিং)। প্রতিদিনের ভারি কনটেইনার ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে এটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সমস্যা সমাধানে চসিক মেয়রের সামনে ৩টি বিকল্প ও রেট্রোফিটিং কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদ্যমান অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হবে, ফলে কোনো উচ্ছেদ ছাড়াই পিলারের লোড ক্ষমতা ৪৫ শতাংশ বাড়বে। কম খরচে এটির মেয়াদ আরও ৩০ বছর বৃদ্ধি পাবে।

পর্যালোচনার পর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।