শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জেলার নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা ও ভিক্ষুক ফিরোজা’র (৬০) দুঃখ গোছাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এতে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করা নান্দাইল পৌরসভার দশালিয়া গ্রামের অসহায় ফিরোজার মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।
জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে মারা যান ফিরোজার স্বামী সুরুজ আলী। এরপর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তিনি একাই বসবাস করছেন ঝুপড়ি ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই তার ঝুপড়ি ঘরে চালা দিয়ে ভেতরে পড়ে পানি। মাঝে মাঝেই ঝড়ো বাতাসে সেই ঝুপড়ি ঘর ভেঙে পড়ার অজানা শঙ্কায় কেঁপে উঠতো ফিরোজার বুক।
তবুও সেই ঝুপড়ি ঘরই ছিল ফিরোজার ছিন্ন জীবনের একমাত্র ভরসা। পাশাপাশি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিরোজার আয় রোজগার না থাকায় অন্যের সহায়তা আর ভিক্ষাবৃত্তিই হয়ে ওঠে তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। ফলে দুঃখ কষ্টেই চলছিল ফিরোজার মানবেতর জীবন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের কাছ থেকে অসহায় ফিরোজার মানবেতন জীবন-যাপনের বিষয়টি জানতে পেয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ইতিমধ্যে ফিরোজার বসবাসের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে একটি নতুন ঘর। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
জানতে চাইলে ফিরোজা বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি শেষ জীবনে এসে নতুন ঘর পাবো। মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমার দিকে তাকিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাসস’কে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের সহায়তায় ফিরোজার জন্য নতুন ঘর তৈরি করা হচ্ছে। খুব দ্রুত ফিরোজা সেই নতুন ঘরে উঠতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, ফিরোজার একটি বিধবা মেয়েকেও অস্থায়ীভাবে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ফিরোজার যেকোন প্রয়োজনে পাশে থাকবে, বলেও জানান ইউএনও।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেন, সমাজের অনগ্রসর অসহায় মানুষের জন্য রাষ্ট্রের দায় রয়েছে। সেই দায় সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই ফিরোজা বেগমের মতো অসহায় বিপন্ন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তৈরি হবে মানবিক রাষ্ট্র।