বাসস
  ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪১
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

বিকেএসপি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দশম শ্রেণীর কারাতে ক্রীড়া বিভাগের ক্যাডেট ইয়াসীন আরাফাত জীমের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) মোঃ মাহফুজুল আলম খানকে কমিটির 

আহ্বায়ক ও মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মোঃ মিজানুর রহমানকে কমিটির সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মোঃ গোলাম মাবুদ হাসান, পিএসসি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন, এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মমিনুল হাসান। 

বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১:৩০ টার মধ্যে কোনো এক সময় অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসীন। তবে বিকেএসপির মতো একটি নিশ্ছিদ্র ও সংরক্ষিত সরকারি ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি য়েছে। ঘটনার পর ইয়াসীনের মরদেহ ময়নাতদন্দের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। 

নিহত ইয়াসীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মেহেরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই কারাতে নিয়ে স্বপ্ন দেখা এই মেধাবী শিক্ষার্থী বাবার হাত ধরে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে নিহতের পরিবারসহ ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুরহস্যের জট খুলতে নবগঠিত তদন্ত কমিটিকে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।