বাসস
  ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯

গণিত, দর্শন ও বিজ্ঞানের সংলাপে নতুন গ্রন্থ ‘জীবন ও গাণিতিক দর্শন’

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে চিন্তাশীল গ্রন্থ ‘জীবন ও গাণিতিক দর্শন’। ৬০ টি নির্বাচিত প্রবন্ধের এই সংকলনে জীবন, দর্শন, গণিত এবং আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়কে সহজ, যুক্তিনির্ভর ও চিন্তাপ্রবণ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

গ্রন্থটি প্রচলিত প্রবন্ধের সীমা অতিক্রম করে পাঠককে সত্য, চেতনা, সময়, বাস্তবতা, মহাবিশ্ব, স্বাধীন ইচ্ছা, গণিতের দর্শন এবং বিজ্ঞানের মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জটিল বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক ধারণাকে গল্পধর্মী ও সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করা। গণিতকে এখানে কেবল সূত্র ও সমীকরণের বিষয় হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের অন্তর্নিহিত ভাষা হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণা এবং মানবজীবনের দার্শনিক প্রশ্নের মধ্যে একটি আন্তঃবিষয়ক সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

গ্রন্থের প্রবন্ধগুলোতে সত্যের অনুসন্ধান, চেতনার প্রকৃতি, অ্যালগরিদমিক চিন্তা, মানব স্বাধীনতা, প্রকৃতির গাণিতিক বিন্যাস, মহাবিশ্বের কাঠামো, সময়, শক্তি, বাস্তবতা এবং জ্ঞানের সীমা নিয়ে আলোচনা স্থান পেয়েছে। এসব বিষয় পাঠককে শুধু তথ্য দেয় না; বরং যুক্তি, বিশ্লেষণ ও আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

বইটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, দর্শন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী বিজ্ঞানমনস্ক পাঠক এবং উদীয়মান বিজ্ঞানীদের জন্য উপযোগী। যারা কঠিন বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক বিষয় সহজ ভাষায় বুঝতে চান এবং বিজ্ঞান ও দর্শনের সমন্বিত আলোচনায় আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি মূল্যবান সংযোজন হতে পারে।

বর্তমান সময়ে যখন জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে, তখন ‘জীবন ও গাণিতিক দর্শন’ সেই আন্তঃবিষয়ক চিন্তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বইটি পাঠককে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে চায় না; বরং প্রশ্ন করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং নতুনভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে। জীবন, গণিত, দর্শন ও বিজ্ঞানের সমন্বিত অনুসন্ধানে আগ্রহী পাঠকদের জন্য গ্রন্থটি একটি আকর্ষণীয় ও চিন্তাজাগানিয়া সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বইটির লেখক জিয়াউর রহমান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি একজন আন্তঃবিষয়ক গবেষক, লেখক ও উদ্ভাবক। তিনি গণিতে এম.এস.সি.; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স এবং জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার গবেষণার ক্ষেত্র গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান, মহাজাগতিক বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, সমাজবিজ্ঞান, দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন।