শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যৌথ গবেষণা এগিয়ে নিতে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি, স্টার্টআপে অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন নেতৃত্ব দেন। ওমানের পক্ষে স্টার ড্রোনস -এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাঈদ আবদুল গফুর সাইফ উদ্দিন -এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে সৌদি আরবিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি দল তাদের বিজ্ঞান, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে। তারা জানান, ওমানে একটি স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়ন করে। এছাড়া তারা নিজস্ব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল উন্নয়ন এবং তথ্য সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
আলোচনায় মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ব্যবহার এবং তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে দেশের তরুণদের দক্ষতা এবং সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও রোবোটিক্স শিল্পে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। তিনি এ খাতে যৌথ গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশি তরুণদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি দল জানায়, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের দেশে হাজার হাজার একর জমিতে সফলভাবে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে। তারা বলেন, বাংলাদেশে কৃষিকাজ, কীটনাশক প্রয়োগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নি-নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব।
এ সময় বাংলাদেশে লবণাক্ততা-সহনশীল ধানের জাত নিয়ে যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী বিশেষ চালের জাত উন্নয়নেও আগ্রহ প্রকাশ করে ওমানের প্রতিনিধি দল।
ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে কাঁঠাল ও আনারসের মতো ফল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির লক্ষ্যে যৌথ গবেষণার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ বলেন, বিসিএসআইআর শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ বিশেষ খাদ্য উদ্ভাবন করেছে, যা আফ্রিকা ও ওমানে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ওমানের প্রতিনিধি দল রেড পাম উইভিল নামের খেজুর গাছের ক্ষতিকর পোকা দমন এবং এর ঔষধি সম্ভাবনা নিয়ে তাদের গবেষণার কথা তুলে ধরে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
দুই দেশের গবেষক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের পারস্পরিক সায়েন্স পার্ক এবং গবেষণা সুবিধা পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল ইনোভেশন ফেয়ার-এ অংশ নিতে ওমানের প্রতিনিধি দলকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে আজকের আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট বা প্রতিনিধিকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুহাম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, স্টার ড্রোনস-এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) বাসিম আল্লাহ বখশ গুলাম আল-জাদজালি, সৌদি আরবিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।