শিরোনাম

রাজশাহী, ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আজ ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট হলে "মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর" সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন করে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে প্রধান বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং বক্তব্য রাখেন। রাবি উপ-উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আব্দুল আলিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ড. ফেলিক্স গারডেস; এফইএস বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম উপদেষ্টা সাধন কুমার দাস; এবং অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর সভাপতি জিল¬ুর রহমান।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে কূটনীতি, নীতি নির্ধারণ এবং জনজীবনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
ফ্রান্সের নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতির কথা উলে¬খ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং লিঙ্গ, পরিচয় বা পটভূমি নির্বিশেষে মৌলিক অধিকার রক্ষা করা উচিত।
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, "দ্বিতীয়" কোনো গ্রহ নেই। রাষ্ট্র্রদূত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই গ্রহকে রক্ষা করতে আরও শক্তিশালী সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু সঙ্কট তৈরি করেছে, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, যারা সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে তাদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায়শই ঐক্যবদ্ধ হতে হিমশিম খায়।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ ও সমন্বিত সমাধান খোঁজার পাশাপাশি দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ ও নীতির পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
তিনি ‘গে¬াবাল সাউথ’ বা ‘কালেক্টিভ ওয়েস্ট’-এর মতো তকমা দিয়ে বিশ্বকে বিভক্ত করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের শব্দগুলো প্রায়শই বিভিন্ন দেশ ও সমাজের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়।
অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত, অভিবাসন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপতথ্য এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তরসহ গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্যে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী থাকতে, পাঠ্যপুস্তকের বাইরে দেখতে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশ্বিক ঘটনাবলী বুঝতে এবং তাদের বিশে¬ষণাত্মক, ডিজিটাল ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করেন।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য, জলবায়ু কার্যক্রম ও প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্রদূতের এই সফর দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং গভীরতর জনসম্পর্ক তৈরিতে অবদান রাখবে।
জিল¬ুর রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, কূটনীতি মূলত মানুষ এবং সংযোগেরই বিষয়। তিনি বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, জলবায়ু কার্যক্রম, উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণ সম্পর্কের কথা উলে¬খ করেন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, এই আলোচনাটি সময়োপযোগী ছিল।