শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রোগীসেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারি বিধিবিধান নিশ্চিত করতে একাধিক নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্না, দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে তিরস্কার, চাকরি থেকে অপসারণ ও বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ ও অভিযোগনামায় গতকাল রোববার এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অধিদপ্তরের এক আদেশে বলা হয়েছে, সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসা. আছমা আক্তার খানমের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৪৩ জনের মধ্যে ১৬ জন নার্স অনুপস্থিত থেকেও অতিরিক্ত বেতন-ভাতা বাবদ মোট ১৮ লাখ ৪ হাজার ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন।
তদন্তে আছমা আক্তার খানমের সম্পৃক্ততা এবং আইবাস++ সিস্টেমে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দাখিলের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
ব্যক্তিগত শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ‘তিরস্কার’ লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে বরখাস্তকালকে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাও পাবেন।
অন্যদিকে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. রুমা আক্তারকে প্রায় ৩ বছর ৯ মাস বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে চাকরিতে যোগদান করলেও ১০ অক্টোবর ২০২২ থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে হাসপাতালের রোগীসেবা ব্যাহত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষানবিশকালেই তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদারকে ‘তিরস্কার’ লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
ব্যক্তিগত শুনানিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।
পরবর্তীতে তাকে তিরস্কার করা হলেও সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে বরখাস্তকালকে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, ঢাকা সেনানিবাসের ১২০০ শয্যা বিশিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে টানা ৪০২ দিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগনামায় বলা হয়, তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি এবং পরবর্তীতে অধিদপ্তরের কারণ দর্শানোর নোটিশেরও উত্তর দেননি।
অধিদপ্তর বলছে, তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকায় ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য হয়।
এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কিনা তাও জানাতে বলা হয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও অসদাচরণের ঘটনায় ভবিষ্যতেও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।