বাসস
  ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৪

এনএসইজেডে ২০০ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)-এ প্রায় ২০০ কোটি টাকা দেশীয় বিনিয়োগে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন কারখানা নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ (রোববার) প্রকল্পটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং দেশীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার, পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার ও ফাহিম আলম চাকলাদার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একটি বিশ্বমানের, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপের অংশ। গ্রুপটির প্রায় দুই হাজার করপোরেট গ্রাহক এবং দেশব্যাপী এক হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সুইচ-সকেট, বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক কেবল, এলইডি লাইট, ফ্যান, পিভিসি পাইপসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বেজা ও এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে বেজা বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প স্থাপনে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দেয় এবং সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বেজা জানায়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। 

সাগরতীরবর্তী প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এ পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে শিল্পকারখানার পাশাপাশি আধুনিক নগর সুবিধাও পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হচ্ছে।