বাসস
  ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯

লালমনিরহাটে উদ্‌যাপিত জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব

ছবি : বাসস

লালমনিরহাট, ২৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং নানা আধ্যাত্মিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে উদ্‌যাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬। শ্রীশ্রী রাধাগিরিধারী মন্দির ও ইসকন, বানিয়ারদিঘীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এই মহোৎসবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট মাঠ থেকে উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা শুরু হয়। হরিনাম সংকীর্তন, উলুধ্বনি ও বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সুসজ্জিত রথটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দিরে গিয়ে যাত্রা শেষ করে। রথ টানতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এরআগে সকালে জেলা পরিষদের পুরাতন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মহোৎসবের ১৪তম বর্ষের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়| অনুষ্ঠানে পবিত্র গীতা পাঠ, বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা এবং ভক্তিমূলক কীর্তন পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। উদ্বোধক ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আশীর্বাচন প্রদান করেন শ্রীমৎ ভক্তিবিনয় স্বামী মহারাজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদ আহম্মেদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। জগন্নাথদেবের কৃপায় বিশ্ববাসীর শান্তি, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

মহোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়| কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হয়| রথটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট মাঠে অবস্থান করে। সাতদিন পর বৃহস্পতিবার উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে রথটি পুনরায় বানিয়ারদিঘী ইসকন মন্দিরে ফিরে গিয়ে এ বছরের রথযাত্রা মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।