বাসস
  ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৫

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে প্রতিমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করে তুলতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএ’কে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। 

তাই নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিআইডব্লিউটিএকে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

জনগণ যাতে দ্রুত, নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা পায়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, নদীপথের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। 

এজন্য ড্রেজিং কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতে হবে, যাতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সেবার গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। 

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নতুন সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপচয় রোধ ও আয় বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

সভায় প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহন খাতে সেবার মান উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএকে সাত দফা নির্দেশনা দেন। 

এর মধ্যে রয়েছে ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে ড্রেজিং পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খনন, নৌপথে নিরাপত্তা বাড়াতে বয়া, বাতি, বিকন ও নৌ-চিহ্ন আরও দৃশ্যমান করতে প্রকল্প গ্রহণ, বন্দর বিভাগের অনিষ্পন্ন ঘাট দ্রুত ইজারা সম্পন্ন করা, ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করে রাজস্ব বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, নদীবন্দরে পণ্য ওঠানামায় পর্যায়ক্রমে অটোমেশন চালু, নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ।

সভার শুরুতে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। 

এতে ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদীবন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াও বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, জনকল্যাণমুখী ও রাজস্বমুখী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় সদস্য (অর্থ) (গ্রেড-২) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্মসচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) সেলিম আহমদসহ বিআইডব্লিউটিএর বিভাগীয় প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।