বাসস
  ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫

ইছামতি নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজ উন্মুক্ত করেন হুইপ আখতারুজ্জামান 

ছবি : বাসস

দিনাজপুর, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): জেলার খানসামা উপজেলার প্লানের বাজার থেকে হাজিরহাট ভায়া বটতলী বাজার সন্নিকটে ইছামতি নদীর ওপর ৫ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর এলজিইডি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলার খানসামা উপজেলায় ইছামতি নদীর ওপর ৫ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।

আজ বেলা ১১টায় দিনাজপুর এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুর খানসামা উপজেলায় অবস্থিত ইছামতি নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

হুইপ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর প্রয়োজনীয়তা ছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে একটি সেতুর জন্য বরাদ্দ আনা হয়েছিল। তবে সঠিক প্রাক্কলন না হওয়ায় ওই বরাদ্দ দিয়ে সেতুটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে সে সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও নানা জটিলতার কারণে সেটি নির্মাণের কাজ শেষ করা যায়নি। নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও বিএনপির মহাসচিব বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহযোগিতায় বৃহত্তর দিনাজপুরে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখন থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আক্তারুজ্জামান মিয়া বলেন, জয়ন্তিয়া ঘাটের সেতুর কাজ দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরেও শেষ হয়নি। সেতুটির পুনরায় টেন্ডার সম্পন্ন করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছর নির্মাণ কাজ শেষ করার পর আজ অত্র এলাকার জনগণের চলাচলের জন্য ইছামতি নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলার খানসামা উপজেলার জয়গঞ্জ থেকে বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ী পর্যন্ত আত্রাই নদীর ওপর একটি বড় সেতু নির্মাণ নিয়েও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই জয়গঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

উন্নয়নের প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, গত ১৫/১৬ বছরে খানসামা থেকে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তিনি অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন সত্বেও গত ১৫ বছরে খানসামা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। অত্র এলাকাবাসী তা জানেন।

তবে একজন ব্যক্তি ভুল করেছেন বলে তিনি কখনো অন্যায় করবেন না; বরং ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।

তিনি বলেন, চিরিরবন্দর ও খানসামার উন্নয়নে তিনি কখনো বৈষম্য করেননি। উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে দুই উপজেলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

সরকার প্রধানের প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেন না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, অটোপাস ও অনলাইন শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমেছে এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি বেড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবারগুলোকে বহন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভালো ফলাফল করতে হলে শুধু গাইড বা নোটবই নয়, পুরো পাঠ্যবই মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। পরীক্ষার সব প্রশ্ন বাইরে থেকে আসে-এমন ধারণা সঠিক নয়। অধিকাংশ প্রশ্নই পাঠ্যবই থেকে আসে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মীয় শিক্ষার উদাহরণ দিয়ে হুইপ বলেন, কোরআন শরিফ ধারাবাহিকভাবে অধ্যয়ন করলে যেমন যে কোনো আয়াতের প্রেক্ষাপট বোঝা যায়, তেমনি পাঠ্যবই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়লে যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়। শুধু মুখস্থ নয়, বিষয়বস্তুর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ সজ্জাকৃত হলরুমের উদ্বোধন করেন হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া। এ সময় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল ও উপবৃত্তি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।