বাসস
  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০০:৪২

সরকার কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিক বিপ্লবে গুরুত্ব দিয়েছে : ডেপুটি স্পিকার 

ছবি : বাসস

নেত্রকোণা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিক বিপ্লবে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

আজ বুধবার রাতে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষিত যুবসমাজকে কৃষিতে আকৃষ্ট করার ওপর জোর দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ধানের ফলন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষিত যুবসমাজ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক প্যান্ট-শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হলে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ করা হচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি নয়, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো বিদেশে চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।

কৃষক কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে না।

খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনুষ্ঠান শেষে সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় লেংগুরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনশো শিক্ষার্থীর মাঝে নিম, পেয়ারা ও মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময়ে ডেপুটি স্পিকার নিজে লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।