বাসস
  ২২ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৪

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অঙ্গীকার

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক কূটনীতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ।

সম্প্রতি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সেবা বিষয়ক মন্ত্রী হাসান রশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।

আজ বুধবার দেশটির বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় পারস্পরিক টেকসই অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসান রশীদ ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের সময়োপযোগী মানবিক সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি সামরিক যানবাহন উপহার প্রদানসহ মালদ্বীপের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বৈঠকে সামুদ্রিক দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ প্রয়াসের ওপর জোর দেন।

বিশেষ করে সামরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রটিকে প্রতিরক্ষা কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ দেশের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ মালদ্বীপের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশে পেশাগত কোর্স, স্টাফ প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত সামরিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে সম্মত হন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হলে সামরিক সরঞ্জাম, লজিস্টিকস এবং কারিগরি সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানেও আগ্রহ দেখায় মালদ্বীপ সরকার।

দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।