শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।
পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম আজ বাসস-কে জানান, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক (আইপিপি) পদ্ধতির আওতায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সব প্রকল্প ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে উৎপাদনে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে দরপত্র খোলা হবে। পরে প্রাপ্ত দরপত্র মূল্যায়ন শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৮১৮ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ১১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে আইপিপিগুলোর সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮০ মার্কিন সেন্ট (প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা), যা একই ধরনের আগের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।
বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দেশে মোট ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা।
কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে গতি আনতে প্রয়োজন হলে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজারে ১৭০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি, টাঙ্গাইলে ১০০ মেগাওয়াট, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও নেত্রকোনায় ৫০ মেগাওয়াট করে, ময়মনসিংহের ভালুকা ও কুড়িগ্রামে ৪৫ মেগাওয়াট করে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৩০ মেগাওয়াট, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ২৫ মেগাওয়াট এবং রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনায় ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ডিন ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বাসস-কে বলেন, সৌর প্যানেল আমদানিতে ১০ বছরের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং সাম্প্রতিক বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরো সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ লক্ষ্যের উদ্দেশ্য।
এদিকে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের আওতায় দেশের ১৯টি স্থানে মোট ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-৭ অনুযায়ী সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে আবাসিক ভবনগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আরো বেশি উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।