বাসস
  ২১ জুলাই ২০২৬, ২২:৫২

সার্ক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ছবি: সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ফেসবুক পেইজ

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত, কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলো। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে অভিন্ন মানদণ্ড, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভার্চুয়াল ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল’-কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সার্ক অঞ্চলের নীতিনির্ধারক, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সহনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।’

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (শস্য) ড. সিকান্দার খান তানভীর কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো মূল্য শৃঙ্খলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নেপালের খাদ্য প্রযুক্তি ও গুণগত নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সিনিয়র ফুড রিসার্চ অফিসার মোহন কৃষ্ণ মহারজন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্বল নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ, সীমিত পরীক্ষাগার সক্ষমতা এবং দুর্বল ট্রেসেবিলিটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তা মানের সমন্বয়, সাফটা কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উত্তম চর্চার প্রসার আঞ্চলিক কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধান অতিথি শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ড. ডব্লিউ এ আর টি উইক্রমারাচ্চি বলেন, ‘খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক মানদণ্ড গ্রহণ, টেকসই কৃষি চর্চার প্রসার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।’

২৩ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় খামার পর্যায়ের মানদণ্ড বাস্তবায়ন, জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, জৈব কৃষি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা, ফসল সংগ্রহোত্তর খাদ্য নিরাপত্তা এবং সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নীতি ও বিধিমালা সংস্কার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।