শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : তুরস্কে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান প্রতিহত করে গণতন্ত্র রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। ‘গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস’-এর দশম বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এ শ্রদ্ধা জানান।
‘১৫ জুলাই অভ্যুত্থানচেষ্টার দশম বার্ষিকী: গণতন্ত্রের বিজয়’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফেতুল্লাহবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন (ফেটো)’র পরিকল্পনায় সংঘটিত ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মরণে তুরস্কে ১৫ জুলাই ‘গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এই দিবসের দশম বার্ষিকীতে আমি ফেটো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী আমাদের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
রাষ্ট্রদূত স্মরণ করেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় ফেটো তুরস্কের জনগণ ও প্রজাতন্ত্রের সরকারের বিরুদ্ধে একটি রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানচেষ্টা চালায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেতুল্লাহ গুলেন এবং তার অনুসারীরা এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন। সে সময় ফেটো-সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে এবং যুদ্ধবিমান ও হামলাকারী হেলিকপ্টার দিয়ে তুরস্কের পার্লামেন্ট, প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্স, সেনা ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়।
রামিস সেন বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নাগরিকরা সেদিন রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থান প্রতিহত করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, ‘সেদিন রাতে তুরস্কের জনগণ নিজেদের জীবন দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ২৫৩ জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করে এবং হাজারো মানুষকে আহত করে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফেটো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তার ও আন্তধর্মীয় সংলাপের আড়ালে নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রেখেছিল।
তিনি বলেন, সংগঠনটি তুরস্ক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
রামিস সেন বলেন, ‘ফেটো কেবল তুরস্কের জন্য নয়, যেসব দেশে তারা সক্রিয় রয়েছে, সেসব দেশের জন্যও একটি হুমকি।’
তিনি জানান, অনেক দেশ ইতোমধ্যে ফেটো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের সদস্যদের বহিষ্কার করেছে। এছাড়া ২০১৬ সালের পর থেকে বিদেশে ফেটোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তুর্কি মারিফ ফাউন্ডেশনের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টাকে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত রামিস সেন গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।