শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গণসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। মানুষ সচেতন না হলে খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কারে শুধু অর্থ ব্যয় করে সুফল পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সিটি কর্পোরেশন, বেসরকারি খাত এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।
আজ সোমবার হোটেল র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেজবান হলে ‘চট্টগ্রাম নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশীদারত্ব আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই উদ্যোগের আওতায় ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক। অংশগ্রহণকারী স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের অর্ধেক এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সকল অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এ প্রকল্প সফল হলে বর্তমানে সংগ্রহের বাইরে থাকা ১ হাজার টন বর্জ্যের অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
খাল থেকে বর্জ্য অপসারণে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে মেয়র বলেন, বড় খালের মাঝখানে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় ছোট ডিঙিনৌকা ব্যবহার করে প্লাস্টিক ও পলিথিন সংগ্রহ শুরু হয়েছে। উদ্ভাবনী এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইউনিলিভার গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসার সঙ্গে চলমান অংশীদারত্ব বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা, সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এতে তাদের আয়, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।
পরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখায় দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক ও দুইজন স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) ব্যবসায়ীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।