শিরোনাম

খুলনা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খুলনার বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাস, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) সেক্টরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ গ্রিন এবং ক্লিন খুলনার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করছেন দলের নেতারা। একই সঙ্গে জনসভায় খুলনার উন্নয়নের রূপরেখাও আশা করছেন তারা।
আজ রোববার দুপুরে নগরীর অভিজাত একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে এ জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতারা বলন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন অর্থনৈতিক জোন নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা দলীয় প্রধানের বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় আসবেন। সকাল থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বেলা ১১টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুলমাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা হবে। সেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
রকিবুল ইসলাম বকুল আরো জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ জনসভায় অংশ নেবেন বলে আশা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। খুলনায় গ্যাস সংযোগ না থাকায় নতুন শিল্প স্থাপন ব্যাহত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। আর ২২ বছর পর তিনি খুলনা সফরে আসছেন। তার আগমন ঘিরে খুলনাঞ্চলে দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। খুলনা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এ জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং এই অঞ্চলের মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে পাবে।
তিনি আরো বলেন, খুলনায় অর্থনৈতিক জোন নির্মাণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দক্ষিণাঞ্চলের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী জনসভায় খুলনাঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান কথা বলবেন। এ কারণে খুলনার জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিএনপি নেতা শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তার আগমনের খবরে খুলনার সর্বস্তরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। খুলনা মহানগর, জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমাবেশ সফল করতে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়াসহ ৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাঠের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে চলছে একের পর এক প্রস্তুতি সভা। ইতোমধ্যে নগরী ও জেলায় প্রচার মাইকিং শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা জানান, জনসভার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। আজ রাতের মধ্যেই মঞ্চ তৈরিসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য তারেক রহমানের খুলনা সফর হবে নতুন প্রেরণার উৎস।