বাসস
  ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৬

সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক, বাল্যবিবাহ নির্মূল সম্ভব নয় : আসাদুল হাবিব দুলু

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: বাসস

বিপুল ইসলাম

লালমনিরহাট, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসাসহ সকল ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই এসব অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব।

লালমনিরহাটে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাসস : উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আপনি কী ধরনের সম্পর্ক দেখেন?

মন্ত্রী : উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু, স্কুল-কলেজ বা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি এলাকায় যদি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুকসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধ বিস্তার লাভ করে, তাহলে সেখানে প্রকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাসস : বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

মন্ত্রী : মাদক আমাদের যুবসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এর সঙ্গে জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দাদন ব্যবসাও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে এসবের প্রভাব রয়েছে। তাই সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বাসস : এসব সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?

মন্ত্রী : শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বাসস : ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের লক্ষ্য কী?

মন্ত্রী : দীর্ঘ বিরতির পর গত ৪ জুলাই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বাসস : সংগঠনটির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে?

মন্ত্রী : ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে।

বাসস : এ উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

মন্ত্রী : আমরা বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেকেই সামাজিক অপরাধ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।

বাসস : এই আন্দোলন কি শুধু লালমনিরহাটেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

মন্ত্রী : না। আমার প্রত্যাশা, এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে। দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে একটি নিরাপদ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাসস : সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মন্ত্রী : সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খাল পুনঃখনন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষকদের সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

বাসস : তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মন্ত্রী : তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।

বাসস : এই পরিস্থিতিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনার বার্তা কী?

মন্ত্রী : একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উন্নয়ন ও সামাজিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।