শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সংস্কৃতি হলো সভ্যতার ভিত্তি, আর অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজা বন্ধ করে দেয়।
আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আদিবাসী সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংস্কৃতিকে সৌন্দর্য্যরে অনুসন্ধান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি হলো সভ্যতার ভিত্তি আর সভ্যতা হলো সংস্কৃতির উন্নত রূপ।
কাদের গনি বলেন, যখন সভ্যতা ছিল না, তখনও সংস্কৃতি ছিল। সংস্কৃতি মানুষকে সৌন্দর্য্যরে পথে নিয়ে যায়, আর বিদেশি সংস্কৃতি মানুষকে কুৎসিততার দিকে ঠেলে দেয় এবং অন্ধকারে নিমজ্জিত করে।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, অশ্লীলতা জাতীয় মূল্যবোধকে শ্বাসরোধ করে, বিবেকের দরজা বন্ধ করে দেয়। অশ্লীলতা মানুষকে মায়ের প্রতি, মাটির প্রতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, এর চাকচিক্য মরীচিকার মতো। তরুণরা অশ্লীলতার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে কারণ এতে উত্তেজনা, উদ্দীপনা এবং ক্ষণস্থায়ী আনন্দ রয়েছে।
তিনি বলেন, এতে আকর্ষণ আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার যুবসমাজের হাতে। যদি এই যুবসমাজ অশ্লীলতার বিষাক্ত ছোবলে বিপথগামী হয়, তবে জাতি ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। চটকদার পশ্চিমা সংস্কৃতি আমাদের হাজার বছরের পুরনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূলে আঘাত হেনেছে। ফলে আমরা আমাদের পরিচয় হারাচ্ছি এবং ক্রমশ সাংস্কৃতিক দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
কাদের গনি বলেন, একটি দেশের সভ্যতা ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি তার সংস্কৃতির প্রকৃতির মাধ্যমে বোঝা যায়। যখন সাংস্কৃতিক পরিবেশ দূষিত হয়, তখন জাতির পতন শুরু হয়। রাষ্ট্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে সংস্কৃতি।
কিছুটা হতাশার সুরে তিনি বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতির চাবি চলে গেছে কর্পোরেট মুনাফাখোরদের হাতে।
তিনি উল্লেখ করেন, তারা বিপুল অর্থ ঢেলে দিয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবসা চালায় সংস্কৃতির নামে। গণমাধ্যমের কারণে এটি ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং অশ্লীলতার বন্যা দেশময় ছড়িয়ে পড়ে। এই বিশ্বায়নের যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আসবেই। বিদেশি চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংস্কৃতি রক্ষায় গ্রামগুলোকে প্রাচীন ঐতিহ্যের মর্মে সমৃদ্ধ করতে হবে, পাশাপাশি নাগরিক সুবিধাও গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ফোনের কঠিন আলো থেকে ফিরিয়ে এনে কোমল চাঁদের আলো, শরতের আকাশ ও তারা ভরা রাত দেখাতে হবে। যাত্রা নাটক ও কবিতার গান প্রতিযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির জন্য শিক্ষা অপরিহার্য।
শিক্ষা ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। আমরা যদি সুস্থ সংস্কৃতি চাই, তবে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড বারবার আক্রান্ত হয়েছে। জিন্নাহ জাতীয় ভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তিনি ব্যর্থ হন। একটি সরকার আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্ররা প্রতিরোধ করেছে। বাংলা ভাষা ও বাকস্বাধীনতা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না। তবে এ ধরনের প্রচেষ্টা এখনো চলছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন আনোয়ারা বেগম নীপার সভাপতিত্বে এবং মঞ্জুর হোসেন ঈসার ঈসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, তাশিক আহমেদ, কামরুল হাসান দর্পণ, এম. এ. সায়েম মাসুম, সিদ্দিক আল মামুন, কাদের মনসুর, আখতার হোসেন এবং মোল্লা নাসির হোসেনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।