বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৭

ক্ষমতায় গিয়ে যারা লুটপাট করে, তাদের দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়: গোলাম পরওয়ার

বুধবার খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া, কাঠালতলা নূরানী স্কিম মাদ্রাসা, মঠবাড়িয়া, চুকনগর আশ্রয়ন প্রকল্প ও আঠারো মাইল বাজারে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন গোলাম পরওয়ার। ছবি: বাসস

খুলনা, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যারা আল্লাহ-রাসূল (সা.) মানে না, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে এবং ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করে, তাদের দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, তেঁতুল গাছ লাগিয়ে কেউ যেমন ফজলি আম আশা করতে পারে না, ঠিক তেমনি চোর, ডাকাত ও দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে ভালো সরকার আশা করা রাজনৈতিক ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজ বুধবার খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া, কাঠালতলা নূরানী স্কিম মাদ্রাসা, মঠবাড়িয়া, চুকনগর আশ্রয়ন প্রকল্প ও আঠারো মাইল বাজারে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা জনগণের দুঃখ ঘোচাতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি বলেন, রাস্তা, স্কুল কিংবা খাল খননের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ আগে ব্যক্তিগত পকেটে ঢোকে, পরে কাজ হয়। ফলে উন্নয়ন হয়েছে দুর্নীতি নির্ভর ও অস্থায়ী। এ কারণে যতদিন না আল্লাহভীরু, সৎ ও জনস্বার্থে নিবেদিত নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, ততদিন এই দেশের মানুষ প্রকৃত শান্তি ও ন্যায় বিচার পাবে না। 

তিনি বলেন, সংসদে আল্লাহর আইন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসতে পারে।  
এদিকে বিকেলে আঠারো মাইল বাজারে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তৃতাকালে মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সাঈদী সাহেব আজীবন দোয়া করেছেন এই দেশে কুরআনের আইন কায়েম হওয়া দেখে যেন মৃত্যু আসে। কিন্তু তাকে সেই দৃশ্য দেখতে দেওয়া হয়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের দলগুলোই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু সু-বিচার, সুশাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আদালত ও প্রশাসন দলীয়করণের শিকার হয়েছে এবং তারা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। 

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি বা লুটপাটের কোনো অভিযোগ নেই। 

এই রাজনৈতিক ঐক্যকে তিনি দেশের জন্য পরিবর্তনের শেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দল-মতের কারণে বিভাজন নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সমর্থকরাও আমাদেরই ভাই-বন্ধু। 

তিনি বলেন, তবে এবার ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেওয়ার সময় এসেছে।  

জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইন, মাওলানা মোতালেব হুসাইন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবির নেতা সামিদুল হাসান লিমন, ডা. আব্দুল মান্নান, হাফেজ রবিউল ইসলাম প্রমুখ।