বাসস
  ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৮
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪০

উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চায় জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে দশ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ছবি: বাসস

পঞ্চগড়, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, যদিও দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় অংশের জোগান আসে এই অঞ্চল থেকেই। 

তিনি জানান, আগামী দিনে উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে।

আজ শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় জেলা চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। 

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ স্বভাবতই দরিদ্র নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে অঞ্চলটিকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকার দেখতে না চাওয়ার কথাও জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদার সঙ্গে কাজের সুযোগ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের দলের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্ভরশীল দয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থা নয়, বরং যুব-সমাজকে ক্ষমতায়িত করে নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় জামায়াত। 

উন্নয়নের ভারসাম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের স্লোগান থাকলেও বাস্তবে সমতা ছিল না; ভবিষ্যতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামীল আমির উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো বড় নদীগুলো অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় আজ কার্যত মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, যা এই অঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকট।

তিনি বলেন, জামায়াত সব সময়ই জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার, জুলাইয়ের আন্দোলনের যোদ্ধা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই দায় পরিশোধের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান জামায়াত আমির।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরিশ্রমের আহ্বান জানানো হয়।