বাসস
  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা ভোলাবাসীর

আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরযুগের অবসানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক আসনে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠনে উল্লসিত ভোলাবাসী। তারা নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে অন্য জেলার ন্যায় বরিশাল বিভাগের এ জেলাটিতেও চারটি আসনের সবকটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি জোট প্রার্থীরা। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাংসদদের শপথের পর মন্ত্রীসভায়ও ডাক পেয়েছেন জেলার ৩ আসনের নির্বাচিত এমপি মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানীকে দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তার মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তির খবরে যেমনি আনন্দিত ভোলাবাসী, তেমনি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের দায়িত্বের চাবি বুঝে নেয়ায়ও উচ্ছ্বসিত দ্বীপ জনপদের মানুষেরা। নতুন এ সরকারের কাছে ভোলার মানুষের রয়েছে একগুচ্ছ মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার ন্যায্য প্রত্যাশা। 

অবহেলিত জেলাবাসী বিগত স্বৈরশাসকামলে তাদের জীবনযাত্রায় পেয়েছে শুধু লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর নির্যাতনের খড়গ। তাই প্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে জেলার মানুষেরা চায় বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা, মানবিক মূল্যবোধ আর জীবন জীবিকার সচ্ছলতা। 

ভোলা ডেভেলপমেন্ট ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুল আলমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা ভোলাবাসী নতুন সরকারের কাছে ভাত কাপড় চাইনা। আমাদের দাবি হচ্ছে, ভোলা-বরিশাল সেতু, আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল কলেজ, ভোলায় প্রাপ্ত খনিজ গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে জেলাকে শিল্পজোন ঘোষণা এবং নদী ভাঙন থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা। 

ভোলার সামাজিক সংগঠন "ব" দ্বীপ ফোরামের সভাপতি মীর মোশাররফ অমি বলেন, অতীতের পতিত স্বৈরসরকার ভোলার মানুষের সাথে শুধু প্রতারণাই করেছে, কিন্তু উন্নয়নের ছিটে ফোটাও করেনি। তাই নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। 

ভোলার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত বলেন, আমরা চাই দেশনায়ক তারেক রহমান ভোলার মানুষের দুঃখ বুঝে এ জেলাকে একটি অনিন্দ্য সুন্দর জেলায় রুপান্তর করবেন। 

ভোলা-১ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বাসসকে বলেন, নির্বাচনের আগে বরিশালের সমাবেশে প্রিয় দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, গ্যাস চালিত শিল্পাঞ্চল ও নদী ভাঙনরোধসহ উন্নয়নের নানা দাবি উত্থাপন করেছিলাম। তিনি আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। লাখো জনতার সামনে বলেছেন, ভোলাবাসীর সব দাবি পূরণ করবেন। তাই নতুন সরকার ভোলাকে উন্নয়নের রোল মডেলের জেলায় রূপান্তরিত করবেন এমন প্রত্যাশাই করছি। 

ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, অগোছালো, অনুন্নত ভোলাকে সাজাতে সংসদে যথাযথ ভূমিকা রাখাই হবে আমার প্রধান কাজ। 

ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বাসসকে বলেছেন, ভোলাকে একটি শিল্পোন্নত সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ। 

ভোলা-৪ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, আগামীতে দ্বীপজেলা ভোলার উন্নয়ন হবে অভূতপূর্ব। এজন্য আমরা চারটি আসনের সংসদ সদস্যগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছ থেকে ভোলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য মৌলিক অধিকার আদায় করে নেবো বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। 

তিনি বলেন, আগামীর ভোলা হবে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে উন্নয়ন ভরপুর একটি তিলোত্তমা জনপদ ও সমৃদ্ধ জেলা। এজন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে বুকভরা একগুচ্ছ উন্নয়নের আশায় মুখিয়ে আছেন ভোলাবাসী।