বাসস
  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৯

অবৈধ সম্পদ অর্জন, সন্দ্বীপের সাবেক এমপি মিতা’র বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রাম, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক এমপি ও রূপালী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মাহফুজুর রহমান ২০০২-২০০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সম্মানী, গৃহভাড়া, লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তিনি মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তবে আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ব্যবসা ও মৎস্য খাতের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয়ের পক্ষে অনুসন্ধানকালে গ্রহণযোগ্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ২০১১-২০১২ থেকে ২০১৬-২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার দাবি করা হলেও এর বৈধ উৎস বা প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা। এতে তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা। অন্যদিকে অনুসন্ধানে তার নামে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকা। ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০০২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত।