বাসস
  ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১১
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৫

রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব মোকাবিলায় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও নাগরিক সচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে ঢাকাকে মশামুক্ত করা সম্ভব।

তারা জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মশার উপদ্রব ও নাগরিক ভোগান্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মতামত দেওয়া হয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ডুরার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা এবং সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, “ডেঙ্গু বা মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসস্থান ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি, তবে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফলতা সম্ভব নয়। সবাই মিলে চেষ্টা করলে মশামুক্ত ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “ঢাকার মশা সমস্যা এখন আর মৌসুমি নয়; এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক বিষয়। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। স্থায়ী সমাধানে নগর পরিকল্পনার সঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব জানান, কিউলেক্স মশার সম্ভাব্য বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “মশাবাহিত রোগ ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সব ধরনের মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”