শিরোনাম

ঢাকা, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে(জবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলের পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মহীয়সী ব্যক্তিত্ব, যার কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও সহজসাধ্য নয়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর অবদান ছাড়া আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কল্পনাও করা যেত না। তিনি ছিলেন সততা, ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রতীক এবং আপসহীন সংগ্রামের নেত্রী। দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক মহাকালের মহাকাব্যের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের শান্তির প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে তাঁর জন্ম, আর সেই শান্তি ও স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা তিনি আজীবন শুধু বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে জাতির অভিভাবক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশ ছিল এক বিরল দৃষ্টান্ত। জীবনের অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানোর গভীর বেদনা সত্ত্বেও তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেন। এক-এগারোর মতো কঠিন সময়ে তিনি শত প্রতিকূলতার মাঝেও এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে যাননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে অসীম ত্যাগ স্বীকার করে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। সন্তান ও নিকটজন হারানোর শোক বহন করেও তিনি বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূমি, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। তাঁর এই দৃঢ়তা, ত্যাগ ও দেশপ্রেম জাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করা একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি কোনো একটি গোষ্ঠীর নন, বরং সমগ্র জাতির নেত্রী ছিলেন। তাঁর জীবন থেকে সহনশীলতা, পরিমিতিবোধ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
এসময় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।