শিরোনাম

/আনিচুর রহমান/
ফরিদপুর, ১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ফরিদপুরে আজ বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রখ্যাত পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পল্লীকবির পৈত্রিক বাড়ি ফরিদপুর শহরতলির কুমার নদের পাড়ে অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর কবির সমাধিস্থলে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা ও জসীম ফাউন্ডেশন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তোরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল, প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিক, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, প্রফেসর এম এ সামাদ, কবি ও সাহিত্যিক মফিজ ইমাম মিলন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
এছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সেখানে পল্লীকবির রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, প্রতিবছরই আমরা পল্লীকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে থাকি। কবির যে সৃষ্টকর্ম এবং তার সৃষ্টকর্মের মধ্যে গ্রাম বাংলার সহজ ও সরলতা রয়েছে, সেগুলো যদি আমরা ধারণ করে সমাজে যদি সেগুলো সঞ্চায়িত করতে পারি, তাহলে সমাজ অনেক সুন্দর হবে, দেশ অনেক সুন্দর হবে। আমরা চাই আগামী প্রজন্ম কবির সৃষ্টকর্মের মাধ্যমে কবিকে উপলব্ধি করুক কবিকে মহিমান্বিত করুক।
কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি তবে তিনি দেশ মাটি এবং মানুষের কবি ছিলেন, তিনি সহজ সরল। তিনি সহজ ভাষায় কবিতা লিখেছেন, যেটা আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠ্য ছিল। কবির যে অবদান সেটাকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন তিনি।
প্রফেসর এম এ সামাদ বলেন, কবি জসীমউদ্দীন যে মহান কাজ করে গেছেন, সেই কাজকে চর্চা করাটাই হলো আমাদের বড় কাজ। আমি নতুন প্রজন্মকে বা শিক্ষার্থীদের বলবো তারা যেন কবির কবিতা পরে এবং সেগুলো নিয়ে চর্চা করে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, উনি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গেও যে ভাষা রয়েছে সেই ভাষাগুলো কবিতার মাঝে উনি তুলে ধরেছেন, এটা সত্যিকার অর্থে আমাদের বাঙ্গালীদের ভাষা। আশা করি নতুন প্রজন্ম উনার সৃষ্টি কবিতা সাহিত্য চর্চা করে দেশ গঠনে বিশেষ করে আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশকে স্বপ্নের বাংলাদেশে নিয়ে যাবে।
কবি তার কবিতায় গ্রাম বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা সহজ ও সাবলীল ভাষায় নিপুনভাবে তুলে ধরেছেন তার কবিতায়। গ্রাম বাংলার নদী, মাঠ, প্রকৃতি, বেদে পল্লীর জীবনসহ গ্রামের ঐতিহ্যকে ও সংস্কৃতিকে তার সাহিত্যর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বিশ্বের দরবারে।
তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, / গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; (নিমন্ত্রণ)
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। (কবর)
ও বাবু সেলাম বারে বার,/ আমার নাম গয়া বাইদ্যা বাবু/ বাড়ি পদ্মা পার। (ও বাবু সেলাম বারে বার)।
এরকম অনেক জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরে যে কবি পেয়েছিলেন ‘পল্লীকবি’ উপাধি। আজ সেই কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী।
পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। কবির বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।
জসীমউদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয় থেকে বি এ এবং এম এ শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সালে।
কবি জসীমউদ্দীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ৩ ছেলে ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি।
তিনি ১৯৭৬ সালে একুশে পদক পান। এবং ওই বছরই ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।