শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম গত ১৫ দিনের তুলনায় কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরেছে। জুলাই মাসের শুরুতে বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার ক্ষত শুকিয়ে এখন নতুনভাবে স্বল্পমেয়াদি সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে।
জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হলেও অন্যান্য উপজেলা ও পার্বত্যাঞ্চল থেকে সবজির জোগান এসেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সবজিবাহী ট্রাক চট্টগ্রাম আসছে নিয়মিত। বন্যার কারণে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম শতক ছুঁয়ে গেলেও এখন কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা কমেছে।
যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, চট্টগ্রামের সবজির ব্যাপক ক্ষতির হলেও বাজার পুরোপুরি স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বাহির থেকেও প্রচুর পরিমাণে সবজি আসে। দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রেতা সাধারণের নাগালে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, কাজীর দেউড়ি কাঁচা বাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
অধিকাংশ সবজির দাম আগের তুলনায় কমে আসায় পরিমাণে কম হলেও কিনতে পারছেন ক্রেতারা। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনও কমেনি। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও ভালো মানের বেগুন ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। বাজারে ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরের বহদ্দারহাটে মুরাদপুর এলাকার ক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন কয়েক ধরনের সবজির দাম কম। ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারের খরচ কিছুটা সামলানো যাচ্ছে। তবে বেগুন আর টমেটোর দাম বেশি।’
আরেক ক্রেতা ইকবাল বলেন, বাজারে পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও পেঁপে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন-টমেটোর দাম আরেকটু কমলে বাজারে আরও স্বস্তি আসত। কাজীর দেউড়ি বাজারের বিক্রেতা নুর হোসেন বলেন, বন্যার ক্ষত শুকিয়ে পার্বত্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। তবে বেগুন ও টমেটোর সরবরাহ তুলনামূলক কম এবং আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এসব সবজির দাম কমছে না।
বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজিম বলেন, কয়েক ধরনের সবজি এখন বেশি আসছে। তাই দাম কম। পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছি। পেঁপের দাম আরও কম, ৩০ টাকা কেজি। কিন্তু বেগুন ও টমেটো আড়তেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনের তুলনায় কাঁচা মরিচ, বরবটি ও বেগুনের দাম এই সপ্তাহে কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ আজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ২০ টাকা। একই অবস্থা বরবটির ক্ষেত্রেও; গত সপ্তাহের ১০০ থেকে ১১০ টাকার বরবটি এই সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। গত সপ্তাহে যে গাজর ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি পটোল ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা এবং কচুর ছড়া ৮০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকায় ঠেকেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, গত ৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে চলা টানা ৯ দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৪৩ হাজার ৫০ টন উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে চট্টগ্রামের বাজার পুরোপুরি স্থানীয় সবজির ওপর নির্ভরশীল নয়। চট্টগ্রামে বাইরের জেলাগুলো থেকেও প্রচুর পরিমাণে সবজি আসে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামের বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি আসে এবং উত্তরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়নি। তার অভিযোগ, দুর্বল বাজার তদারকির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়িয়েছিলেন। এখন কিছুটা দাম কমেছে, এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।