বাসস
  ০৪ জুন ২০২৬, ১৫:৩১

রাজাপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি: বাসস

ঝালকাঠি, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জেলার রাজাপুর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতায় স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন, রাজাপুরের আয়োজনে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামিম রেজা সজীব, রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অক্ষয় সরকার।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনগণের জন্য সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় আদালতের ওপর চাপ কমছে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বেশি জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রাজাপুর উপজেলায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে ৪২০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মোট মামলার ৯৪ শতাংশ। এছাড়া ১৭৯টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, এ সময়ে ১২৪ জন নারী আবেদনকারী গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণ করেছেন। বিচার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণের হার ১৫ শতাংশ। এছাড়া গ্রাম আদালত বিষয়ে ১০ হাজারের বেশি নারী-পুরুষকে সচেতন করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে ১২৭টি মামলা গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা গ্রাম আদালতের সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।