বাসস
  ০৪ জুন ২০২৬, ১৬:৫৮

তীব্র তাপদাহের পর কিশোরগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টি, জনজীবনে প্রশান্তি

ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ও দমবন্ধ করা তাপদাহের পর অবশেষে কিশোরগঞ্জ জেলা জুড়ে নেমেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি। প্রচ- গরমে শিশু ও প্রবীণসহ সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম, ঠিক তখনই এই বৃষ্টি জনজীবনে পরম প্রশান্তি ফিরিয়ে এনেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর ও ইটনাসহ বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে স্থবির হয়ে পড়েছিল কিশোরগঞ্জের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। ফলে দুপুরের এই বৃষ্টি যেন উষার মরুর বুকে পরম এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৃষ্টিতে চারপাশের তপ্ত আবহাওয়া নিমেষেই শীতল হয়ে যায়। যার ফলে পুরো জেলার তাপমাত্রা এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমে গেছে।

পাকুন্দিয়া পৌর সদরের বাসিন্দা আসাদ মিয়ার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ঈদের পর থেকেই বৃষ্টির কোনো দেখা ছিল না। প্রতিদিন তীব্র রোদের কারণে কাজকর্ম, চলাফেরা বা খাওয়া-দাওয়াÑকিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি হওয়ার পর গরম যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেল। খুব শান্তি লাগছে।

মোফাজ্জল হোসেন নামের আরেকজন জানান, ‘কয়েক দিনের টানা গরমে ছোট-বড় সবাই চরম দুর্ভোগে ছিল। আজকের এই বৃষ্টিতে শরীর ও মনে প্রশান্তি নেমে এসেছে।

এদিকে কদিন ধরে তীব্র গরমের কারণে হাট বাজারের বেচাকেনাতেও এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছিল। দুপুরের বৃষ্টির পর জেলা সদর ও পাকুন্দিয়ার ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি দেখা গেছে।

জেলা সদরের শাফায়েত বলেন, কদিন ধরে গরমের কারণে জীবন পুরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অফিসে বসে থাকাই যাচ্ছিল না। আজকের বৃষ্টিতে যে কী ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

টানা তাপদাহের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় হওয়া এই বৃষ্টি একদিকে যেমন জনজীবনে স্বস্তি এনেছে এবং তাপমাত্রা কমিয়েছে, অন্যদিকে তাপদাহে ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতি ও রোপণকৃত কৃষিতেও নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিকলী উপজেলা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, বেলা ১১টার পর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে কমে এসেছে তাপমাত্রা। আগামীকাল শুক্রবারও জেলা জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।