শিরোনাম

রাজবাড়ী, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি’র উদ্যোগে আজ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার সকালে রাজবাড়ী জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, রাজবাড়ির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, জেলা লিগ্যাল এইডের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. হাসান আল আজাদ,
জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট কাজী আব্দুল বারী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাক, লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এডভোকেট শাহীদুল ইসলাম,সাবেক জেলা বার অ্যাসোসিশনের সভাপতি খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু, জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল ল ইয়ার পিলা রানী সেন এবং নিজাম উদ্দিন হায়দার, রাজবাড়ী জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি এবং জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে অসহায় মানুষের আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
বক্তারা বলেন, একটা মামলা থেকে ৫টা মামলার সৃষ্টি হয়। এই জন্যে মামলার সংখ্যা না বাড়িয়ে মামলার জট কমাতে হবে। নির্যাতিত, অসহায় মানুষকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাও ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা।
দরিদ্র মানুষ কোর্টে আসলে তার প্রতিদিনের আয়ের বড় একটা ক্ষতি গ্রস্ত হয়। এ জন্য মোবাইল ফোনেও তিনি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সমাধান পেতে পারেন।
এই কমিটি অসহায় মানুষকে সব ধরনের আইনগত সহায়তা করে থাকে, যাদের মামলা দায়ের করার অর্থ নেই, তাদের পক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
কোন পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে এ কমিটির কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।
সমাজে অনেক অসহায় মানুষ আছেন যারা কোর্টে আসতে পারেন না, টাকা পয়সাও নেই, মামলাও করতে পারেন না। তারা অনলাইনের মাধ্যমেও ঘরে বসে বিচারিক সহযোগিতা পেতে পারেন। সেই তথ্য জানানোর জন্যই আমরা আজকের এই আয়োজন করেছি।
জমি-জমা, দেন মোহর, ভরণ পোষণ, এসব বিষয়েই অনলাইনেই একটি মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য জানিয়ে মামলায় না জড়িয়েও বিনা টাকা-পয়সায় সরকারী খরচে মীমাংসা করতে পারেন।
বক্তারা বলেন, লিগ্যাল এইডে অনেক মামলা থাকলেও এখন কমে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪টিতে।
সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে কেউ সমস্যায় পড়লে তিনিও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা অর্থে আইনগত সহযোগিতা পেতে পারেন।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশও বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে। বিকল্পভাবে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে এই বিরোধের সমাধানের জন্য লিগ্যাল এইড কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।
অনলাইনে লিগ্যাল এইড এই নম্বরে ১৬৬৯৯ ঘরে বসে সহযোগিতা পেতে পারেন।
বক্তারা বলেন, আইনের প্রাণ হচ্ছে ন্যায় বিচার। সংবিধানে বারবার আইনের ন্যায় বিচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার প্রার্থীরা বড়ই অসহায়। বিচারের সাথে যারা জড়িত কর্মচারি,কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিচার প্রার্থীদের সাথে সুন্দর আচরণ করুন।
বক্তারা বলেন, মানুষকে সচেতন করতে হবে। যারা সুষ্ঠ বিচার থেকে বঞ্চিত, বিচার পাচ্ছেন না, লিগ্যাল এইড থেকেও যারা বঞ্চিত তাদের জন্য বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা বলেন, যার টাকা আছে তিনি যেমন বিচারিক সুবিধা পাবেন, যার টাকা নেই তিনিও সেই সুবিধা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পেতে পারেন।
আপনার দোরগোড়ায় লিগ্যাল এইড ন্যায়বিচার পাবার আহ্বান জানাচ্ছে। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিচার পেয়ে এখন তার মনে আর কোন কষ্ট নেই-এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেন মালেকা বেগম নামে এক অসহায় মহিলা।