শিরোনাম

লক্ষ্মীপুর, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): মালদ্বীপে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত তাজ উদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজির পাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের কাচারিবাড়ির বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র।
নিহত তাজ উদ্দিনের স্ত্রী অনন্তি বেগম জানান, ছয় মাস আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তাজ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) ভোর রাতে নির্মাণাধীন এলাকা সংলগ্ন গেষ্টহাউজে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি।
বাসসের সাথে আলাপকালে কান্না জড়িত কণ্ঠে অনন্তি বেগম বলেন, ‘আমার সন্তানের বয়স চারমাস। এখন আমার এই চার মাসের মেয়েসহ পরিবারের হাল ধরবে কে?’
স্বজনরা জানান, ধারদেনা করে ছয় মাস আগে পরিবারের হল ধরতে মালদ্বীপে যান তাজ উদ্দিন। মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ড এলাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দুইদিন আগে স্বামী তাজউদ্দিনের সাথে কথা হয়, স্ত্রী অনন্তি বেগমের। সেদিন স্ত্রীকে ঈদের কেনা-কাটার জন্য কিছু টাকা পাঠানোর কথাও বলেছিলেন তাজ উদ্দিন। কিন্তু কে জানে এই কথাই তাদের জীবনের শেষ কথা।
পুত্র তাজউদ্দিনের মৃত্যুর খবর শুনে বৃদ্ধ বাবা ও মা শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। তাজউদ্দিনের বাবা আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের অভাব দূর করতে মালদ্বীপে যায় তাজ উদ্দিন। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার মৃত্যুতে আমাদের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। তার ঘরে চার মাসের শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে দু:চিন্তায় পড়েছেন। দ্রুত ছেলের লাশ দেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডের নির্মাণাধীন এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় তাজ উদ্দিনসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত হন। দগ্ধ হন আরো দুইজন। তাজ উদ্দিন ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। তাজ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।